October 18, 2026, 9:29 am

ছাতক রেলপথ পুনর্বাসনে ধীরগতি, ৬ বছরে ফেরেনি ট্রেন

স্টাফ রিপোর্ট

বাংলাদেশ রেলওয়ের উত্তর-পূর্বাঞ্চলের সর্বশেষ স্টেশন সুনামগঞ্জের ছাতক। একসময় চুন, চুনাপাথর, পাথর, সিমেন্ট ও পাল্প অ্যান্ড পেপার মিলের জন্য পরিচিত শিল্পনগরটি। যোগাযোগব্যবস্থার উন্নয়ন ও পণ্য পরিবহনের সুবিধার্থে ১৯৫৪ সালে স্থাপন করা হয় সিলেট-ছাতক রেললাইন। কিন্তু গত ছয় বছর ধরে এই রেলপথে কোনো ট্রেনের হুইসেল বাজেনি। বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত রেলপথ পুনর্বাসনে প্রকল্প নেওয়া হলেও নির্ধারিত মেয়াদে কাজ শেষ হয়নি। বরং মেয়াদ শেষে প্রকল্পের অগ্রগতি ২১ থেকে ২৫ শতাংশের মধ্যে থাকায় বর্ধিত সময়েও কাজ শেষ হওয়া নিয়ে সংশয় দেখা দিয়েছে স্থানীয়দের মধ্যে।
রেলওয়ে সূত্র জানায়, করোনা মহামারির কারণে ২০২০ সালের মার্চে সিলেট-ছাতক রুটে ট্রেন চলাচল বন্ধ হয়ে যায়। পরবর্তী সময়ে সারা দেশে ট্রেন চলাচল স্বাভাবিক হলেও এই রুটে আর ট্রেন চালু হয়নি। এর মধ্যে ২০২২ সালের ভয়াবহ বন্যায় রেললাইনটি মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়। বন্যার পর রেলপথটি মেরামতের উদ্যোগ নেওয়া হলেও সংস্কারকাজ শুরু হতে দীর্ঘ সময় লেগে যায়।
পরবর্তী সময়ে ২০২৫ সালের ফেব্রুয়ারি থেকে রেলপথ পুনর্বাসনের কাজ শুরু হয়। চলতি বছরের ২৩ আগস্ট প্রকল্পের নির্ধারিত মেয়াদ শেষ হলেও রেলওয়ের নথি অনুযায়ী, তখন পর্যন্ত কাজের অগ্রগতি ছিল মাত্র ২১ শতাংশ।
অন্যদিকে, সিলেট-ছাতকবাজার সেকশন (মিটারগেজ) পুনর্বাসন প্রকল্পের পরিচালক মো. মহিউদ্দিন আরিফের তথ্য অনুযায়ী, কাজ শেষ হয়েছে ২৫ শতাংশ।
রেলওয়ে ও স্থানীয় সূত্র জানায়, সিলেট-ছাতক রুটে শুধু যাত্রী পরিবহনই হতো না, স্থানীয় কৃষি ও শিল্প খাতেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখত এই রেলপথ। একসময় ছাতক থেকে ট্রেনে বালু, পাথর, চুনাপাথর, সিমেন্টসহ বিভিন্ন কৃষিপণ্য পরিবহন করা হতো। দেশের একমাত্র কংক্রিট স্লিপার কারখানাটিও ছিল ছাতকে। কিন্তু রেল যোগাযোগ বন্ধ থাকায় ব্যবসায়ীদের এখন এসব পণ্য সড়কপথে বাড়তি খরচে পরিবহন করতে হচ্ছে। একসময় ছাতকগামী ট্রেন খাজাঞ্চিগাঁও, সৎপুর ও আফজালাবাদ স্টেশনে যাত্রাবিরতি করত।
রেলওয়ে সূত্র জানায়, সিলেট-ছাতকবাজারের ৩৪ কিলোমিটার রেলপথ পুনর্বাসনে ২১৭ কোটি ৩৪ লাখ ৪ হাজার ৩৬৯ টাকা ব্যয়ে একটি প্রকল্প নেওয়া হয়। প্রকল্পটির কাজ পায় ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান মীর আখতার হোসেন লিমিটেড (এমএএইচএল)। ২০২৫ সালে শুরু হওয়া প্রকল্পটির কাজ চলতি বছরের ২৩ আগস্টের মধ্যে শেষ হওয়ার কথা ছিল।
প্রকল্পের আওতায় রেলপথে মাটি ভরাট, কালভার্ট নির্মাণ, সেতু মেরামত এবং নতুন স্লিপার ও রেললাইন বসানোর পরিকল্পনা রয়েছে। মাটি ভরাটের জন্য পুরোনো রেললাইন অপসারণের কাজ ইতিমধ্যে শেষ হয়েছে। স্টেশনের পাইলিংয়ের কাজও সম্পন্ন হয়েছে। তবে বিভিন্ন স্থানে সংস্কারকাজের অগ্রগতি ধীর। দীর্ঘদিন ট্রেন চলাচল বন্ধ থাকায় কোথাও কোথাও জঙ্গলে ঢেকে গেছে রেলপথ। কোনো কোনো স্থান দেখে বোঝার উপায় নেই, সেখানে একসময় রেললাইন ছিল।
এদিকে, প্রকল্পের কাজ শেষ করতে মেয়াদ বাড়িয়ে ২০২৭ সালের ৩০ জুন পর্যন্ত নির্ধারণ করা হয়েছে। তবে নির্ধারিত সময়ের মধ্যে মাত্র ২১ থেকে ২৫ শতাংশ কাজ সম্পন্ন হওয়ায় বর্ধিত মেয়াদেও প্রকল্পের বাস্তবায়ন নিয়ে সংশয় প্রকাশ করেছেন স্থানীয়রা।
প্রকল্প পরিচালক মো. মহিউদ্দিন আরিফ মেয়াদ বৃদ্ধির বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, বৃষ্টির কারণে রেলপথে মাটি ভরাটের কাজ শেষ করা সম্ভব হয়নি। এ কারণে নির্ধারিত সময়ে প্রকল্পের কাজ সম্পন্ন করা যায়নি। মাটির কাজ শেষ হলে রেললাইন বসানোর কাজ শুরু হবে। বর্ধিত মেয়াদের মধ্যে প্রকল্পের কাজ শেষ করা সম্ভব হবে বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন।



ফেসবুক পেইজ