May 21, 2026, 5:28 am

ঠিকাদার বদল, ভাগ্য বদলাবে তো? কু‌শিয়ারা নদীর বহরগ্রাম-‌শিকপুর সেতু কবে দেবে স্বস্তি

ইমরান আহমদ সিলেট

ইমরান আহমদ,সিলেট,

সিলেটের গোলাপগঞ্জ ও বিয়ানীবাজার উপজেলার সংযোগ সড়কের কুশিয়ারা নদীর উপর বহরগ্রাম-‌শিকপুর সেতু নির্মাণ প্রকল্পটি দীর্ঘদিন অনিশ্চয়তায় থাকার পর নতুন করে আশার আলো দেখছে। প্রায় এক বছর কাজ বন্ধ থাকার পর সম্প্রতি নতুন একটি ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠান পুনরায় নির্মাণকাজ শুরু করেছে। তবে কবে নাগাদ কাঙ্ক্ষিত সেতুটি বাস্তবে রূপ নেবে এমন প্রশ্ন ঘুরপাক খাচ্ছে স্থানীয়দের মনে।

জানা গেছে, প্রায় ১৪৪ কোটি টাকা ব্যয়ে বাস্তবায়নাধীন ১ হাজার ১৬৫ মিটার দীর্ঘ এ সেতুর কাজ শুরু হয় ২০২৪ সালের ১৭ ফেব্রুয়ারি। কাজটি ২০২৭ সালের ১৫ ফেব্রুয়ারি শেষ করার নির্দেশ রয়েছে। কিন্তু গণঅভ্যুত্থানের পর পূর্বের ঠিকাদার কাজ অসমাপ্ত রেখেই সরে যায়। এরপর নানা প্রশাসনিক জটিলতা, বিশেষ করে ভূমি অধিগ্রহণ সংক্রান্ত বিরোধের কারণে প্রকল্পটি দীর্ঘদিন স্থবির হয়ে পড়ে।
বর্তমানে নতুন ঠিকাদার নিয়োগের মাধ্যমে আবারও কাজ শুরু হলেও প্রকল্প ঘিরে অনিশ্চয়তা পুরোপুরি কাটেনি।

স্থানীয়দের অভিযোগ, জমি অধিগ্রহণের ক্ষতিপূরণ এখনো অনেক মালিক পাননি। ফলে শুরুতেই সুষ্ঠু সমাধান না হওয়ায় প্রকল্পটি বারবার বাধার মুখে পড়ছে।

এদিকে সেতুর অভাবে গোলাপগঞ্জ, বিয়ানীবাজার ও বড়লেখা উপজেলার কয়েক লাখ মানুষ প্রতিদিন চরম ভোগান্তি পোহাচ্ছেন। বিশেষ করে রোগী, শিক্ষার্থী ও কর্মজীবী মানুষের দুর্ভোগ সীমাহীন আকার ধারণ করেছে। জেলা শহরে যাতায়াত করতে গিয়ে তাদের অতিরিক্ত ১০ থেকে ১৫ কিলোমিটার পথ ঘুরে যেতে হচ্ছে। এতে সময় ও অর্থ দুই দিক থেকেই ক্ষতির মুখে পড়ছেন সাধারণ মানুষ।

স্থানীয়রা জানান, একসময় বহরগ্রাম-শিকপুর ফেরিঘাট দিয়ে প্রতিদিন অসংখ্য যানবাহন চলাচল করলেও ২০১৫ সালে হঠাৎ করেই ফেরি বন্ধ হয়ে যায়। এরপর থেকে কার্যত বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ে এ রুট। বর্তমানে নদী পারাপারের একমাত্র ভরসা ছোট নৌকা, যা ঝুঁকিপূর্ণ এবং সময়সাপেক্ষ।

সেতুর কাজ দীর্ঘদিন বন্ধ থাকায় স্থানীয় অর্থনীতিতেও নেতিবাচক প্রভাব পড়েছে। পণ্য পরিবহনে বাড়তি দূরত্ব অতিক্রম করতে হওয়ায় বাজারে নিত্যপ্রয়োজনীয় দ্রব্যের দামও বেড়ে গেছে। পাশাপাশি পরিবহন খরচ বাড়ার সুযোগে যাত্রীদের কাছ থেকে অতিরিক্ত ভাড়া আদায়ের অভিযোগও রয়েছে।

স্থানীয় সমাজকর্মী ও সচেতন মহলের দাবি, দ্রুত ভূমি অধিগ্রহণ সমস্যার সমাধান করে প্রকল্পটি নির্ধারিত সময়ের মধ্যে শেষ করতে হবে। অন্যথায় এই অঞ্চলের উন্নয়ন আরও পিছিয়ে পড়বে।

উপজেলা প্রকৌশল বিভাগের একাধিক সূত্র জানায়, ভূমি অধিগ্রহণসহ অতিরিক্ত ব্যয় মেটাতে প্রয়োজনীয় অর্থ অনুমোদনের জন্য মন্ত্রণালয়ে প্রস্তাব পাঠানো হয়েছে। সংশ্লিষ্ট জটিলতা নিরসন হলে দ্রুতগতিতে কাজ এগিয়ে নেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে।

সিলেট-৬ (গোলাপগঞ্জ-বিয়ানীবাজার) আসনের নব‌নির্বা‌চিত সংসদ সদস্য অ্যাডভোকেট এমরান আহমদ চৌধুরী জানিয়েছেন, পূর্বের ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান কাজ অসমাপ্ত রেখে চলে যাওয়ায় প্রকল্পটি কিছুদিন স্থবির হয়ে পড়েছিল। বর্তমানে নতুন ঠিকাদার নিয়োগের মাধ্যমে সীমিত পরিসরে পুনরায় কাজ শুরু হয়েছে।
তিনি আরও বলেন, সেতুর উভয় পাশে ভূমি অধিগ্রহণ সংক্রান্ত কিছু জটিলতা ছিল। এ বিষয়ে সরকারিভাবে শিগগিরই নোটিশ জারি করা হবে। জমির মালিকরা প্রয়োজনীয় কাগজপত্র জমা দিলে সব প্রক্রিয়া সম্পন্ন করে নির্মাণকাজ শুরু করা সম্ভব হবে, ইনশাআল্লাহ।

তি‌নি আরও উল্লেখ করেন, প্রকল্প বাস্তবায়নে যে জটিলতা র‌য়ে‌ছে, দ্রুত তা নিরসনে স্থানীয় জনগণের আন্তরিক সহযোগিতা অত্যন্ত প্রয়োজন। সেতুটি নির্মিত হলে আশপাশের এলাকার মানুষই সবচেয়ে বেশি উপকৃত হবেন। যোগাযোগ ব্যবস্থা সহজ হবে, সময় ও খরচ কমবে এবং সামগ্রিক অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডে গতি আসবে।

এদিকে দ্রুত সেতুর কাজ সম্প‌ন্নের দাবিতে গোলাপগঞ্জ ও বিয়ানীবাজারে একাধিক মানববন্ধন কর্মসূচি পালন করেছেন স্থানীয় বাসিন্দারা। তাদের একটাই প্রত্যাশা—দীর্ঘ প্রতীক্ষার অবসান ঘটিয়ে দ্রুত সেতুর নির্মাণকাজ শেষ করা হোক।
সবমিলিয়ে, বহু প্রতীক্ষিত বহরগ্রাম-শিকপুর সেতু এখনো আশার প্রতীক হয়ে রয়েছে। নতুন করে কাজ শুরু হলেও বাস্তবায়নের গতি ও প্রশাসনিক সমন্বয়ই নির্ধারণ করবে গোলাপগঞ্জের শিকপুর ও বহরগ্রামের মানুষ কবে সত্যিই সেতুর দেখা পাবে।