May 21, 2026, 6:12 am

নির্বাচনী ইশতেহারে যে প্রতিশ্রুতি দিলেন তাসনিম জারা

ঢাকা প্রতিনিধি

নির্বাচনী ইশতেহারে যে প্রতিশ্রুতি দিলেন তাসনিম জারা

ঢাকা প্রতিনিধি

আসন্ন নির্বাচনে ঢাকা-৯ আসনের স্বতন্ত্র প্রার্থী ডা. তাসনিম জারা বলেন

‘ঢাকা ৯-কে (আসনকে) অবহেলার দিন শেষ।’ নিজের নির্বাচনী ইশতেহারে এমন মন্তব্য করেছেন ঢাকা-৯ আসনের স্বতন্ত্র প্রার্থী ডা. তাসনিম জারা। আজ শনিবার তিনি নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক অ্যাকাউন্ট থেকে তাঁর এলাকার ভোটারদের উদ্দেশে নির্বাচনী ইশতেহার ঘোষণা করেছেন।

আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে ঢাকা-৯ আসনের ভোটারদেরকে মোটা দাগে ৬টি প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন ডা. তাসনিম জারা। নিজেকে পেশাদার রাজনীতিবিদ হিসেবে নয়, বরং ‘এলাকার মেয়ে’ বলে পরিচয় করিয়ে দেন তিনি। ঢাকা-৯ আসনের সাথে ‘বিমাতাসুলভ আচরণ করা হয়’ উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘আমরা সমান ট্যাক্স দেই, আমাদের অধিকারও সমান। আমাদের ন্যায্য পাওনা এবার আমরা বুঝে নিবো।’

সদ্য এনসিপি থেকে পদত্যাগ করা তরুণ এই প্রার্থী বলেন, ‘রাষ্ট্র আমাদের কেবল “রাজস্ব আদায়ের উৎস” মনে করে। টাকা নেওয়ার সময় আছেন, কিন্তু সেবা দেওয়ার সময় নেই।’

নির্বাচনী ইশতেহারে ডা. তাসনিম জারা মূলত ছয়টি বিষয়ের ওপর ভিত্তি করে তাঁর উন্নয়ন পরিকল্পনা সাজিয়েছেন। এক্ষেত্রে প্রথমেই তিনি উল্লেখ করেছেন গ্যাস, রাস্তা ও জলাবদ্ধতা সমস্যার কথা। গ্যাস সংকট ও ভঙ্গুর রাস্তা নিয়ে জারা কঠোর অবস্থান নেওয়ার কথা জানিয়েছেন। তিনি প্রতিশ্রুতি দেন যে, তিতাস গ্যাস সরবরাহ করতে না পারলে বিল মওকুফের জন্য ‘সেবা না দিলে বিল নেই’ (নো সার্ভিস, নো বিল) নীতিতে আইন প্রণয়ন করবেন। এছাড়া এলপিজি সিন্ডিকেট ভাঙতে সরকারি ভর্তুকি নিশ্চিত করা, ড্রেনেজ ব্যবস্থার আধুনিকায়ন এবং রাস্তা সংস্কারের কাজে ঠিকাদারদের জবাবদিহিতা ও জরিমানা নিশ্চিত করার কথা জানান তিনি।

একজন চিকিৎসক হিসেবে জারা স্বাস্থ্য খাতকেও অগ্রাধিকার দিয়েছেন। মুগদা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের আধুনিকায়ন ও জনবল বৃদ্ধির পাশাপাশি তিনি প্রতিটি পাড়ায় ‘মিনি-হাসপাতাল’ বা আধুনিক কমিউনিটি ক্লিনিক গড়ার প্রতিশ্রুতি দেন। ডেঙ্গু প্রতিরোধে কেবল মৌসুমি কাজ নয়, বরং সারা বছর সক্রিয় ‘স্থায়ী মশা নিধন স্কোয়াড’ গঠনের পরিকল্পনা তাঁর ইশতেহারে রয়েছে।

তিনি আরও প্রতিশ্রুতি দেন যে, এলাকার নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে স্কুল-কলেজ ও শিল্পাঞ্চল সংলগ্ন রাস্তায় সিসি ক্যামেরা এবং উচ্চ-ক্ষমতার ল্যাম্পপোস্ট বসিয়ে ‘নিরাপদ করিডোর’ তৈরি করা হবে। মাদক ব্যবসায়ীদের বিরুদ্ধে জিরো টলারেন্স নীতি প্রণয়ন এবং বাসে নারীদের জন্য সংরক্ষিত আসন ও নিরাপদ যাতায়াত নিশ্চিত করার প্রতিশ্রুতিও দেন তিনি।

শিক্ষার্থীদের ‘গিনিপিগ’ বানানো বন্ধের আহ্বান জানিয়ে জারা ঘোষণা করেন, স্কুলে ভর্তির ক্ষেত্রে এমপির কোনো কোটা বা সুপারিশ থাকবে না। মেধার ভিত্তিতে ভর্তি নিশ্চিত করার পাশাপাশি প্রতিটি স্কুলে আধুনিক সায়েন্স ল্যাব, কোডিং ক্লাব এবং এআই (AI) শিক্ষার সুযোগ তৈরির মাধ্যমে তরুণদের বিশ্ববাজারের জন্য দক্ষ করে তোলার পরিকল্পনা নিয়েছেন তিনি।

বেকারত্ব দূর করতে তিনি ‘স্টার্ট-আপ ঢাকা-৯’ ফান্ডের মাধ্যমে তরুণ উদ্যোক্তাদের জামানতবিহীন ঋণের ব্যবস্থা করার প্রতিশ্রুতিরও উল্লেখ আছে তাঁর ইশতেহারে। এছাড়া কর্মজীবী মায়েদের সুবিধার্থে প্রতিটি ওয়ার্ডে সরকারি খরচে ‘কমিউনিটি ডে-কেয়ার সেন্টার’ স্থাপন এবং স্থানীয় ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীদের জন্য ই-কমার্স প্রশিক্ষণের উদ্যোগ নেওয়ার কথা বলেন তিনি।

প্রথাগত রাজনীতির বাইরে গিয়ে জারা প্রতিশ্রুতি দেন যে, নির্বাচিত হওয়ার এক মাসের মধ্যে এলাকায় স্থায়ী কার্যালয় স্থাপন করবেন। কোনো মধ্যস্বত্বভোগী বা ‘ভাই’ ছাড়া সরাসরি এমপির সাথে কথা বলার সুযোগ তৈরি এবং এলাকাবাসীর অভিযোগের বর্তমান অবস্থা জানতে একটি ডিজিটাল ড্যাশবোর্ড চালু করার ঘোষণা দেন তিনি।

ইশতেহারের শেষে ডা. তাসনিম জারা ভোটারদের উদ্দেশে বলেন, ‘আপনারা অনেক নেতা দেখেছেন, অনেক প্রতিশ্রুতি শুনেছেন। এবার একজন ডাক্তারকে সুযোগ দিন, যে ডাক্তার জানে রোগ কোথায় আর ওষুধ কোনটা, যে ডাক্তার কথা রাখে, যে ডাক্তার বিপদে পাশে এসে দাঁড়ায়। এমন একজন শিক্ষিত সন্তানকে সুযোগ দিন, যে আপনাদের মাথা নত হতে দেবে না।’