May 21, 2026, 6:12 am

ভিন্ন পথে আসছে শাহ আরফিনের পাথর, নেপথ্যে হাবিব (পর্ব–১)

নিজস্ব প্রতিবেদক

নিজস্ব প্রতিবেদক,

সিলেটের কোম্পানীগঞ্জের শাহ্ আরফিন টিলা থেকে পাথর লুট বন্ধে ট্রাস্কফোর্সের নিয়মিত অভিযান, পাথর লুটেরাদের বিরুদ্ধে মামলা, টিলার চতুর্দিকের প্রবেশদ্বারে ঢালাই করে পিলার স্থাপন, জেলা প্রশাসনের উদ্যোগে বৈঠক, সেই বৈঠকের সিদ্ধান্ত, টিলা কেটে উত্তোলিত পাথর জব্দ ও নিলাম, পাথরবাহী অসংখ্য ট্রাক্টর আটক করা হলেও কোনোকিছুই যেন তোয়াক্কা করছে না পাথর লুটেরারা। বছরের পর বছরের মতো করে এখনও লুটপাট হচ্ছে শাহ্ আরফিন টিলার পাথর। প্রশাসনের কোনো উদ্যোগই যেন থামাতে পারছেনা ওই স্থান থেকে লুটেরাদের পাথর লুট।

জানা যায়, কোম্পানীগঞ্জের এক সময়কার কালের সাক্ষী হয়ে দাঁড়িয়ে থাকা শাহ আরফিন টিলা (বর্তমানে বিরানভূমি) থেকে পাথর লুট ঠেকাতে উপজেলা প্রশাসনের উদ্যোগে শাহ আরফিন পয়েন্টে গত বছরের ১৮ নভেম্বর সড়কে বসানো হয়েছিলো লোহার বেষ্টনী। ফলে লুট হওয়া পাথরবাহী ট্রাক্টরগুলো বেষ্টনীতে আটকা পড়বে। কিন্তু তাতে কোনো কাজ আসেনি– শত শত ট্রাক্টর গাড়ি দিয়ে লুট হওয়া পাথর আসতে থাকে বিভিন্ন ক্রাশার মিলে। মাঝেমধ্যে পাথর পরিবহনে থানাপুলিশ বাঁধা দিলে ঘটে থাকে অপ্রীতিকর ঘটনা, পরে ওইসব ঘটনায় থানায় হয় মামলা। তবে অদৃশ্য কারনে মামলায় লুটপাটকারী রাঘববোয়ালদের আসামী করা হয় না। লোহার বেষ্টনী ও মামলায় যখন পাথর লুট ঠেকাতে ব্যর্থ হয় প্রশাসন তখন চলতি বছরের এপ্রিলে বাবুল নগর এলাকায় সড়কে বসানো হয় আরেকটি বাঁশের বেষ্টনী। সেখানে আবার নিয়মিত পুলিশও মোতায়েন করে রাখা হয়েছে।

স্থানীয় বাসিন্দারা বলেন, ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট শেখ হাসিনা সরকারের পতনের পরপর কোম্পানীগঞ্জের শাহ আরফিন টিলা থেকে চিকাডহর গ্রামের মৃত ময়না মিয়ার ছেলে হাবিবের নেতৃত্বে গণহারে লুট হয় পাথর। এতে করে টিলাটি এখন বিরানভূমিতে পরিণত হয়েছে। হাবিবের প্রভাবে পাথর লুট বন্ধে প্রশাসনের নেয়া সকল উদ্যোগকে বৃদ্ধাঙ্গুলি দেখিয়ে শতাধিক কোয়ারী থেকে পাথর লুট করে নেয় অন্যান্য লুটেরারা।

এদিকে উপজেলা প্রশাসন সূত্রে জানা যায়, এপ্রিলের ৯ তারিখ জ্বালানি ও খনিজসম্পদ মন্ত্রণালয়ের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট সৈকত রায়হানের নেতৃত্বে ৯৬ হাজার ৮শ’ ঘনফুট পাথর জব্দ করা হয়। পরে ওইসব জব্দকৃত পাথর পশ্চিম ইসলামপুর ইউপি চেয়ারম্যান জিহাদ আলীর জিম্মায় রেখে যাওয়া হয়। পরে প্রচলিত প্রক্রিয়ায় উক্ত পাথরগুলো নিলামে বিক্রি করা হয়।

স্থানীয়রা আরও বলেন, পাথর লুটকারীরা প্রশাসনের সকল উদ্যোগকে ম্লান করে দিয়ে ইতোমধ্যে ভিন্নপথ তৈরি করে নিয়েছে। ট্রাক্টরে করে অন্য পথ দিয়ে পাথর নিয়ে যাচ্ছে তারা।