July 21, 2026, 5:54 pm
শিরোনাম :
আর্জেন্টিনাকে লজ্জায় ডুবিয়ে বিশ্বচ্যাম্পিয়ন স্পেন সিলেটে আইসিসিআর স্কলারশিপের ওরিয়েন্টেশন প্রোগ্রাম অনুষ্ঠিত প্রবাসীদের নিয়ে মানহানিকর ভিডিও প্রচারের অভিযোগ, নিরপেক্ষ তদন্ত ও ন্যায়বিচারের দাবি ডিবির অভিযানে বিপুল পরিমাণ বিদেশি মদসহ মাদক কারবারি আটক এমসি কলেজে সংঘবদ্ধ ধর্ষণে একজনের মৃত্যুদণ্ড, ৩ জনের যাবজ্জীবন দ্রুত বিচার আইনের মামলায় বাঘার শরিফ উদ্দিনের সহযোগী ফারুক আহমদ মছরুকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেশের ৪ নদীর পানি এখনও বিপৎসীমার ওপরে রক্তাক্ত বিয়ানীবাজার: ২৪ ঘণ্টায় দুই হত্যাকাণ্ড, কন্যা হত্যা মামলায় বাবা গ্রেফতার খামেনি হত্যার প্রতিশোধ নিতে ইরানি গণমাধ্যমে ১৩ নেতার ছবি প্রকাশ সেমিফাইনালে কে কার মুখোমুখি, খেলা কখন

সিলেটে আইসিসিআর স্কলারশিপের ওরিয়েন্টেশন প্রোগ্রাম অনুষ্ঠিত

স্টাফ রিপোর্ট

ভারত সরকারের ইন্ডিয়ান কাউন্সিল ফর কালচারাল রিলেশনস (আইসিসিআর) স্কলারশিপ ২০২৬-২৭ সনের নির্বাচিত শিক্ষার্থীদের জন্য সিলেটস্থ ভারতীয় সহকারী হাই কমিশন সিলেট নগরীর একটি অভিজাত হোটেলে এক বর্ণাঢ্য প্রোগ্রামের আয়োজন করে।
শনিবার সন্ধ্যায় অনুষ্ঠিত ওরিয়েন্টেশনে বিশিষ্ট শিক্ষাবিদ, গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ , স্কলারশিপপ্রাপ্ত শিক্ষার্থীএবং ভারতীয় সহকারী হাই কমিশনের কর্মকর্তারা অংশগ্রহণ করেন।

অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন সিলেট-৬ আসনের সংসদ সদস্য এডভোকেট এমরান আহমদ চৌধুরী। তিনি তাঁর বক্তব্যে আইসিসিআর স্কলারশিপ কর্মসূচির ভূয়সী প্রশংসা করেন এবং এই গুরুত্বপূর্ণ উদ্যোগ গ্রহণের জন্য ভারত সরকারকে আন্তরিক ধন্যবাদ জানান।

অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য প্রদান করেন ভারতীয় সহকারী হাই কমিশনের দ্বিতীয় সচিব রাজেশ ভাটিয়া । তিনি আইসিসিআর স্কলারশিপ কর্মসূচির উদ্দেশ্য ও তাৎপর্য তুলে ধরে শিক্ষার্থীদের নতুন শিক্ষাজীবনে আত্মবিশ্বাস, শৃঙ্খলা ও নিষ্ঠার সঙ্গে এগিয়ে যাওয়ার আহবান জানান।

ভারতীয় সহকারী হাই কমিশনার অনিরুদ্ধ দাস তাঁর বক্তব্যে আইসিসিআর স্কলারশিপ ২০২৬-২৭ সেশনের জন্য নির্বাচিত সকল শিক্ষার্থীকে আন্তরিক অভিনন্দন জানান এবং তাঁদের সফল শিক্ষাজীবন ও উজ্জ্বল ভবিষ্যৎ কামনা করেন। একই সঙ্গে তিনি আশা প্রকাশ করেন যে, এই শিক্ষা বিনিময় কর্মসূচি ভবিষ্যতে বাংলাদেশ ও ভারতের জনগণের মধ্যে বন্ধুত্ব, পারস্পরিক বোঝাপড়া এবং সহযোগিতার সম্পর্ককে আরও সুদৃঢ় করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে।

তিনি আরো বলেন, শিক্ষা দুই প্রতিবেশী দেশের মধ্যে বন্ধুত্ব, পারস্পরিক শ্রদ্ধাবোধ এবং সহযোগিতার অন্যতম শক্তিশালী ভিত্তি। তিনি আশা প্রকাশ করেন, শিক্ষার্থীরা উচ্চশিক্ষা শেষে অর্জিত জ্ঞান, দক্ষতা ও অভিজ্ঞতা দেশের উন্নয়ন এবং মানবসম্পদ বিকাশে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখবেন।
তিনি শিক্ষার্থীদের অধ্যবসায়, সততা ও দায়িত্বশীলতার সঙ্গে নিজেদের শিক্ষাজীবন পরিচালনার আহ্বান জানান।

বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন মেট্রোপলিটন ইউনিভার্সিটি, সিলেটের উপাচার্য প্রফেসর ডা. মোহাম্মদ জহিরুল হক। তিনি বলেন, ভারত বাংলাদেশের অকৃত্রিম বন্ধু। ভারতে উচ্চশিক্ষার সুযোগ পাওয়া গর্বের ও সম্মানের বিষয়। তিনি শিক্ষার্থীদের ভারতে অবস্থানকালে বাংলাদেশের যোগ্য প্রতিনিধি হিসেবে দায়িত্বশীল ভূমিকা পালনের আহবান জানান।

সিলেট কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের ডিন প্রফেসর ডা. এ. এস. এম. মাহবুব আইসিসিআর স্কলারশিপপ্রাপ্ত শিক্ষার্থীদের অভিনন্দন জানিয়ে বলেন, বাংলাদেশ বৃহত্তর ভারতীয় সভ্যতার একটি অবিচ্ছেদ্য অংশ। তিনি শিক্ষার্থীদের ভারতীয় জ্ঞান, বিজ্ঞান ও গবেষণা চর্চার অংশীদার হয়ে অর্জিত অভিজ্ঞতা বাংলাদেশের উন্নয়ন ও সমৃদ্ধিতে কাজে লাগানোর আহ্বান জানান।

শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের বাংলা বিভাগের অধ্যাপক জাফির সেতু বলেন, ভারতে অধ্যয়ন কেবল ডিগ্রি অর্জনের সুযোগ নয়, বরং এটি একটি সুবিশাল ও বহুমাত্রিক দেশের সংস্কৃতি, চিন্তা ও অভিজ্ঞতার সঙ্গে পরিচিত হওয়ার এক অনন্য ক্ষেত্র। তিনি আশা প্রকাশ করেন, আইসিসিআর স্কলারশিপপ্রাপ্ত শিক্ষার্থীরা তাঁদের অর্জিত জ্ঞান ও অভিজ্ঞতা ভবিষ্যতে বাংলাদেশের শিক্ষা, গবেষণা ও উন্নয়নে কার্যকরভাবে কাজে লাগাবেন। উল্লেখ্য, এ বছর সিলেট অঞ্চল থেকে ৪০ জন মেধাবী বাংলাদেশি শিক্ষার্থী আইসিসিআর স্কলারশিপের আওতায় ভারতের বিভিন্ন প্রখ্যাত বিশ্ববিদ্যালয় ও প্রকৌশল শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে স্নাতক ও স্নাতকোত্তর পর্যায়ে অধ্যয়নের জন্য নির্বাচিত হয়েছেন। তাঁরা আইআইটি মাদ্রাজ, এনআইটি শিলচর, এনআইটি চণ্ডীগড়, দিল্লি টেকনোলজিক্যাল ইউনিভার্সিটি, দিল্লি বিশ্ববিদ্যালয়, মুম্বাই বিশ্ববিদ্যালয়, পাঞ্জাব বিশ্ববিদ্যালয়সহ ভারতের বিভিন্ন স্বনামধন্য উচ্চশিক্ষা প্রতিষ্ঠানে অধ্যয়নের সুযোগ লাভ করেছেন।
অনুষ্ঠানে তাঁদের এই সাফল্যের জন্য অভিনন্দন জানানো হয় এবং ভারতে উচ্চশিক্ষা গ্রহণের বিভিন্ন দিক সম্পর্কে প্রয়োজনীয় দিকনির্দেশনা প্রদান করা হয়।

অনুষ্ঠানের শেষ পর্বে আইসিসিআর স্কলারশিপে নির্বাচিত শিক্ষার্থীরা একটি মনোজ্ঞ সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান পরিবেশন করেন।